Monday, June 29, 2015


আকাশটা খানিক মেঘলা ছিলো। ঝিনুক রিকশায় উঠে চলে যাচ্ছিলো। ফোনের দিকে তাকালাম। নিয়ম হয়ে গেছে যে যাওয়ার সময় ফোন দেবেই সে। সামনে বসে যত ঘন্টাই কথা হোক না কেন
রিকশা উঠে ওর মনে পড়েই যাবে কি কি বাকি রয়ে গেছে। তাই ফোন দিয়ে সেগুলো বলে যাবে অনর্গল।
ফোন বাজছে কিন্তু ধরলাম না। চলে যেতে থাকা রিকশার দিকে তাকিয়ে আছি। হুডের পেছন দিকে সামান্য ফাঁক থাকে রিকশায়। ওদিক দিয়েই পেছন ফিরে তাকালো। চোখে প্রশ্ন কেন ধরছি না ফোন। উত্তর দিলাম আর অপেক্ষা নয়। ধরলাম কল।
কি ব্যাপার কল ধরো না কেন?
তোমাকে আর একটু দেখতে ইচ্ছে হলো তাই।
মানে? আবার কিভাবে দেখবা?
এই যে পেছন ফিরে তাকালে?
তা তো তুমি ফোন ধরছো না দেখে তাই।
সকালের আলোতে চোখের স্নান করানোর ইচ্ছা ‘মায়া’র অনেক দিনের । কিন্তু কোন দিনই সে সকালে উঠতে পারে না । আজ হঠাৎ ফজরের আজানের শব্দ শুনে হুড়মুড় করে বেড থেকে উঠে বসলো । মনে হয় খারাপ কোন স্বপ্ন দেখেছে । অন্ধকারের মাঝে বেডের পাসে ছোট বক্সের উপর রাখা টেবিল ল্যাম্পের সুইজ হাতড়াতে লাগলো । বাইরে হালকা-হালকা আলোর আভা বেরনো শুরু হয়েছে । ‘মায়া’ কোনরকমে লাইট দিয়ে, টেবিলের উপর শেড দিয়ে ঢাকা পানির গ্লাসটা এক ঢোকে শেষ করে দিল । পূর্ব দিকের জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে হালকা আলোর ছটা এসে বিছানার উপর পড়ছে । তার ভয় ভয় ভাবটা অনেক অংশে কেটে গেলো । চোখে মুখে একটু স্বস্তির ছায়া ভেসে উঠল । তার মনটা আজ অনেক খুসি , অনেক দিনের অতৃপ্ত আশা আজ পুরুন হতে চলেছে । সে এতটাই খুসি যে, কি করবে ভেবে পাচ্ছে না । ঘরের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত বারবার পাইচারি করছে ।

Sunday, June 28, 2015



সিএনজি থেকে নেমে প্রায় আধভেজা হয়ে এসে কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে ঢুকল জয়। বাইরে তখন মেঘের বিগড়ে যাওয়া মেজাজের প্রবল দাপট। রাস্তা থেকে তাই এটুকু পর্যন্ত প্রায় তড়িঘড়ি করে এসেও রক্ষা পেল না সে। গায়ের সাথে লেপটে যাওয়া ভেজা টি-শার্টটা টেনে ঠিক করতে করতে ওয়েটিং চেয়ারের সারি আর টোকেন-কাউন্টারকে পাশ কাটিয়ে কখন যে সার্ভিস কাউন্টারের সামনে চলে আসলো, সে টেরই পেল না। একই সারিতে তিনটা সার্ভিস কাউন্টার। মাথার উপরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভেসে ওঠা আলাদা আলাদা এক দুই তিন নম্বর দেখে বোঝা যায় এখানে আসলে তিনটা কাউন্টার। তা না হলে, সস্তা ফাস্টফুডের দোকানে দেয়াল ঘেঁষে পাকা করা উঁচু টেবিলগুলোর মতো লম্বা একটা ডেস্কেই তিনটা কাউন্টারকে আলাদা ভাবা বাইরের লোকের পক্ষে বেশ কঠিন হতো।
জয় সোজা হেঁটে এসে দুই নম্বর কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছে। কাচের পাল্লার দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে সোজা হেঁটে সার্ভিস কাউন্টার পর্যন্ত আসলে দুই নম্বর কাউন্টারই সামনে পড়ে। দুই নম্বর কাউন্টারে ডেস্কের দিকে একেবারে ঝুঁকে পড়ে কাজ করতে থাকা মেয়েটাকে দেখে তৎক্ষনাৎ চমকে উঠল জয়। মিথিলা! চমকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন হয়ে উঠল সে। ভেজা শরীরের রিনরিনে অনুভূতিটুকু এক ধাক্কায় উবে গেল। এক এবং তিন নম্বর কাউন্টারের অবস্থান দুই